তিনটি ঘর আলাদা করে পড়া
রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের একটি সারণির প্রতি সারিতে একটি বছর, চন্দ্র নববর্ষের একটি তারিখ এবং একটি প্রাণী আছে। পাশাপাশি থাকার সুবিধা আছে, তবে প্রতিটি ঘর ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। তারিখটি জানায় উল্লিখিত বছরে নববর্ষের উৎসব কবে পড়ে। প্রাণীটি সেই বছরের সঙ্গে জাদুঘরের দেখানো রাশিচক্রের সম্পর্ক জানায়। বছরের সংখ্যাটি সারি খুঁজে নিতে সাহায্য করে। এই তথ্যগুলো আলাদা করে পড়লে সারণির বিন্যাস থেকেই সব প্রাণী-বছরের সীমানা সম্পর্কে কোনো অনুল্লিখিত নিয়ম ধরে নিতে হয় না।
জাদুঘরের সারণিতে ২০২৭ সালের পাশে ৬ ফেব্রুয়ারি ও ছাগল, এবং ২০২৮ সালের পাশে ২৬ জানুয়ারি ও বানর রয়েছে। পরের দুই সারিতে ২০২৯ সালের জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি ও মোরগ, আর ২০৩০ সালের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি ও কুকুর দেওয়া হয়েছে। এগুলো দেখায় যে নববর্ষের তারিখ বছরভেদে বদলায় এবং জাদুঘর নির্দিষ্ট বছরের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রাণীর সম্পর্ক দেখায়। কিন্তু শুধু এই সারিগুলো থেকে প্রত্যেক প্রাণী-বছরের নাম ঠিক কোন মুহূর্তে বদলাবে, তার সর্বজনীন নিয়ম পাওয়া যায় না। এমন নির্দিষ্ট দাবি করতে হলে স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন।
পঞ্জিকার রীতিগুলো বোঝা
তারিখের ঘরটি বুঝতে পঞ্জিকার ব্যাখ্যা কাজে আসে। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচ চীনা পঞ্জিকাকে চন্দ্র-সৌর বলে বর্ণনা করে: এতে চাঁদের কলা এবং সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর কক্ষপথ, উভয়ই বিবেচ্য। তাদের বিবরণে মাসের প্রথম দিন অমাবস্যার তারিখ। প্রথম মাসের প্রথম দিনে উৎসব শুরু হয় এবং পঞ্চদশ দিনে লণ্ঠন উৎসবে শেষ হয়। জাদুঘর আরও জানায়, সাধারণ বছরে বারো মাস এবং অধিমাসযুক্ত বছরে তেরো মাস থাকে। তাই একটি তারিখ পড়ার সময় পঞ্জিকার নিজস্ব বিন্যাস মনে রাখা দরকার।
হংকং অবজারভেটরি কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের রীতি জানায়। চীনা পঞ্জিকার বছরের শুরু এবং তার গ্যান-ঝি নামের পরিবর্তন চিহ্নিত করতে তারা প্রথম চীনা মাসের প্রথম দিন ব্যবহার করে। তাদের ২০১৮ সালের উদাহরণে সৌর পর্ব ‘বসন্তের সূচনা’ ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু প্রথম মাসের প্রথম দিন ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি। অবজারভেটরি বলেছে, কিছু লোকপ্রিয় পঞ্জিকা গ্যান-ঝি পরিবর্তনের জন্য প্রথম তারিখটি ধরে, যা তাদের সরকারি রীতির থেকে আলাদা। উদ্ধৃত বিবরণটি পঞ্জিকা ও গ্যান-ঝির রীতি প্রতিষ্ঠা করে; সব প্রাণী-বছরের সাধারণ সীমানা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করে না।
কোনো নির্দিষ্ট তারিখ যাচাই করতে অবজারভেটরির ১৯০১ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত গ্রেগরীয় ও চীনা পঞ্জিকার রূপান্তর সারণি আছে। কেবল একটি প্রাণীর নাম দেখার চেয়ে পঞ্জিকার তারিখ যাচাইয়ের জন্য এটি বেশি সরাসরি উপায়। অবজারভেটরি সতর্ক করেছে যে বহু দশক পরের গণনায় অমাবস্যা বা সৌর পর্ব মধ্যরাতের কাছাকাছি হলে সংশ্লিষ্ট তারিখে এক দিনের অমিল হতে পারে। সতর্কতাটি গণনা করা তারিখের নির্ভুলতা নিয়ে। রূপান্তরের তারিখ, গ্যান-ঝি নাম এবং প্রাণীর সম্পর্ক তাই একসঙ্গে লেখা থাকলেও পৃথক দাবি।
প্রাণী, ঐতিহ্য ও বৈজ্ঞানিক সীমা
রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচ প্রাণীগুলোর ক্রম দিয়েছে: ইঁদুর, বলদ, বাঘ, খরগোশ, ড্রাগন, সাপ, ঘোড়া, ভেড়া, বানর, মোরগ, কুকুর ও শূকর। তাদের মতে, বারো প্রাণীর ক্রম ষাট বছরের নামকরণ চক্রে পাঁচবার ফিরে আসে। বিভিন্ন দেশের পার্থক্যও তারা দেখিয়েছে: ভিয়েতনামে খরগোশের বদলে বিড়াল এবং বলদের বদলে মহিষ আছে। অর্থাৎ সারণিতে সাংস্কৃতিক প্রাণী-সম্পর্ক এবং পঞ্জিকার একটি তারিখ পাশাপাশি থাকে। পাশাপাশি থাকা কোনো মানুষের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য মাপার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়।
নাসা জ্যোতির্বিজ্ঞানকে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন বলে। নাসার ব্যাখ্যায় ভবিষ্যৎ বলা বা মানুষের স্বভাব বর্ণনা করার জ্যোতিষীয় দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রাণীর সম্পর্ক সাংস্কৃতিক প্রতীক বা বিনোদন হিসেবে উপভোগ করা যায়, কিন্তু জ্যোতিষ বিজ্ঞানসম্মত ভবিষ্যদ্বাণীর পদ্ধতি নয়। ভাবনার আমন্ত্রণ, প্রমাণিত প্রভাব নয়: জাদুঘরের চারটি সারির একটি বেছে নিয়ে তার তারিখ ও প্রাণী আলাদা করে লিখুন। তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, প্রতিটি তথ্য ঠিক কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়।
জ্যোতিষ বিনোদন ও আত্মচিন্তার একটি মাধ্যম। এটি ঘটনা ভবিষ্যদ্বাণী করে না এবং পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়।
