ধরা যাক, দুজনের জন্ম ২০২৭ সালে। একজনের জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি, অন্যজনের ৬ ফেব্রুয়ারি। গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারে তাঁদের জন্মের বছর একই। তবু জন্মবছরের সঙ্গে যুক্ত প্রাণীটির উত্তর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নতুন বছর কবে শুরু হচ্ছে তার ওপর। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের সারণিতে ২০২৭ সালের চন্দ্র নববর্ষের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি, আর নতুন বছরের প্রাণী ছাগল। প্রথম জন্মদিনটি সেই সীমার আগে; দ্বিতীয়টি ঠিক সীমার দিনেই পড়ে।

নিজের ক্ষেত্রে উত্তর যাচাই করতে সম্পূর্ণ জন্মতারিখ দিয়ে শুরু করুন: দিন, মাস ও বছর। তারপর ওই গ্রেগরীয় বছরের জন্য সারণিতে দেওয়া চন্দ্র নববর্ষের তারিখ খুঁজুন। দুটি তারিখের তুলনা করুন। জন্মদিনটি তালিকাভুক্ত দিনে বা তার পরে হলে এই রীতি অনুযায়ী নতুন বছরের প্রাণীটি ব্যবহার করুন। জন্মদিন আগে হলে আগের প্রাণীর বছরের সারি দেখুন। তাই জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে জন্মানো কারও ক্ষেত্রে জন্মসনদে লেখা বছরের সংখ্যাটি একা সব সময় প্রশ্নের সমাধান করে না।

সারণি আরও একটি উদাহরণ দেয়, যার জন্য কারও স্বভাব অনুমান করার দরকার নেই। ২০২৮ সালে চন্দ্র নববর্ষ ২৬ জানুয়ারি, আর সারণিতে প্রাণী হিসেবে বানর লেখা আছে। ২৫ জানুয়ারি ২০২৮-এ জন্মানো ব্যক্তি পরিবর্তনের আগের দিকে থাকেন; ২৬ জানুয়ারিতে জন্মানো ব্যক্তি এই রীতি অনুযায়ী বানরের বছরের শুরুতে পৌঁছান। এখানে দরকারি বিষয় তারিখের ক্রম, মানুষের কোনও অনুমিত বৈশিষ্ট্য নয়। দুটি উদাহরণেই একই প্রশ্ন: জন্মদিন কি দেওয়া দিনের আগে, নাকি সেই দিনেই?

সীমানাটি গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারের একই তারিখে প্রতি বছর পড়ে না কেন? রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচ চীনা ক্যালেন্ডারকে চন্দ্রসৌর বলে বর্ণনা করে। এটি চাঁদের কলা এবং সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর কক্ষপথ, দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে। হংকং অবজারভেটরি জানায়, এর মাসে ২৯ বা ৩০ দিন থাকে। সাধারণ বছরে বারো মাস, আর অতিরিক্ত মাসযুক্ত বছরে তেরো মাস থাকে। মাসের প্রথম দিনটি অমাবস্যার তারিখ। এই নিয়মগুলির কারণেই প্রতি বছরের চন্দ্র নববর্ষের তারিখ দেখা, ১ জানুয়ারিকে পরিবর্তনের দিন ধরে নেওয়ার চেয়ে নির্ভুল।

কোন রীতি বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও বলা দরকার। হংকং অবজারভেটরি একটি স্পষ্ট উদাহরণ দিয়েছে: ২০১৮ সালে সৌর পর্ব ‘বসন্তের সূচনা’ ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু চীনা ক্যালেন্ডারের প্রথম মাসের প্রথম দিন ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি। অবজারভেটরি বছরের নাম বদলের সীমা হিসেবে এই প্রথম দিনটিই ব্যবহার করে। তারা জানায়, কিছু ভাগ্যগণনাকারী ‘বসন্তের সূচনা’ ব্যবহার করেন। এখানে রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের সারণি অনুযায়ী উত্তরটি চন্দ্র নববর্ষ অনুসরণ করে। দুই সম্ভাব্য সীমার মাঝখানে জন্ম হলে ভিন্ন উত্তর শুনে প্রশ্ন করুন: কোন সীমাটি ব্যবহার করা হয়েছে?

প্রাণীর নামটিকেও প্রেক্ষাপটসহ বুঝতে হয়। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচ জানায়, বিভিন্ন দেশের তালিকায় অনেক প্রাণী প্রায়ই এক হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাদের বিবরণে জাপানে শূকরের বদলে বুনো শূকর আছে; ভিয়েতনামে বলদের বদলে মহিষ এবং খরগোশের বদলে বিড়াল আছে। তাই ২০২৭ সালের জন্য সারণির ‘ছাগল’ শব্দটি ব্যবহার করলে ওই নির্দিষ্ট সারণির একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। শব্দটি সব সাংস্কৃতিক রূপকে এক করে না, আর ওই বছরে জন্মানো ব্যক্তিকেও বর্ণনা করে না।

ক্যালেন্ডার কোনও তারিখ কোথায় পড়ছে তা নির্ধারণ করতে পারে। শুধু সেই শ্রেণিবিন্যাস দিয়ে কারও চরিত্র বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। নাসা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের পার্থক্য করে: জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ নিয়ে কাজ করে, আর জ্যোতিষশাস্ত্রের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক দাবিগুলি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে দাঁড়ায় না। প্রাণীর নাম সাংস্কৃতিক প্রতীক কিংবা আনন্দের কথোপকথনের বিষয় হতে পারে। সেগুলিকে বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণীর পদ্ধতি বলা এমন এক দাবি, যা ক্যালেন্ডারের তারিখগুলি প্রমাণ করে না।

শেষে একটি ভাবনার আমন্ত্রণ, প্রাণীটি আপনার জীবনে প্রভাব ফেলে এমন দাবি নয়: প্রথমে চিনে নিন পরিবর্তনের তারিখের কোন পাশে আপনার জন্মদিন। তারপর চাইলে পরিবার বা বন্ধুদের মুখে শোনা প্রাণীর নামটি মনে করুন। শেষে উল্লেখ করা রীতির সঙ্গে মেলে এমন সারণির সারিটি খুঁজে নিন। এই কাজগুলি আলাদা: ক্যালেন্ডারে অবস্থান চেনা, কারও বলা নাম মনে রাখা এবং প্রকাশিত তথ্যের সারি খুঁজে পাওয়া। তারিখ যাচাইয়ের পর প্রাণীটির নাম আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?

জ্যোতিষ বিনোদন ও আত্মচিন্তার একটি মাধ্যম। এটি ঘটনা ভবিষ্যদ্বাণী করে না এবং পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়।